Babies Shop BD Photo1

আপনি কি আপনার সন্তানের মোবাইল আসক্তি নিয়ে চিন্তিত?

নানারকম সতর্কবাণী থাকা সত্ত্বেও অনেক সচেতন বাবা-মাকে শিশুদের হাতে মোবাইল তুলে দিতে দেখা যায়। প্রযুক্তি আমাদের অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ঠিক। কিন্ত এর ক্ষতিকারক প্রভাবটা খেয়াল রাখাও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
মোবাইল ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ- এসব ডিভাইস সৃজনশীল এবং সুবিধাজনক। কিন্তু শিশুদের জন্য এটি বেশ বিপদজনক। এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার অর্থাৎ অত্যধিক স্ক্রিন টাইম শৈশবের সামাজিক এবং মানসিক বিকাশের ওপর ভীষণ রকম বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব ফেলে।
ক্ষতিকর দিকগুলো হলো-
* ডিভাইসে আসক্তির কারণে তারা বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ক্রিয়াকলাপ যেমন- খেলাধুলা, দৌঁড়ানো বা সাইকেল চালানো মিস করে; ফলে তাদের দক্ষতা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
* টিভি, মোবাইল গেম বা যেকোনো ধরনের ভার্চুয়াল এন্টারটেইনমেন্ট দেখার সময় আমাদের মস্তিষ্কের কোষ থেকে ডোপামিন নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসরণ হয়। এ ডোপামিন আমাদের মনে এক ভালোলাগার অনুভূতি সঞ্চার করে। যার ফলে অতি সহজেই আমরা এ ধরনের এন্টারটেইনমেন্ট মিডিয়াগুলোতে আসক্ত হয়ে পড়ি।
শিশুদের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় সমস্যা দেখা যায়। সেগুলো মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো-
• শিশু সময়মতো খেতে চাইবে না। এর ফলে অপুষ্টিতে ভুগবে।
• সবার আগে প্রভাব পড়বে চোখের ওপর। দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে কমে আসবে। ঘাড়ে ব্যথা হবে।
• জেদি, অতিচঞ্চল ও বদমেজাজি হয়ে উঠবে।
• পড়ালেখা ও কর্মজীবনের মান কমে যাবে।
• অতি উদ্বিগ্নতা, বিষণ্নতা এবং তীব্র মানসিক চাপের মতো মানসিক রোগ দেখা দিতে পারে।
• পারিবারিক মূল্যবোধ বিনষ্ট ও মা-বাবার উপদেশ না মানার প্রবণতা তৈরি হবে।
• মোবাইলের কারণে অতিরিক্ত সেলফি তোলা বা সেলফিটিস নামের নতুন একটি মানসিক রোগ সৃষ্টি হয়েছে। যার অনেক দুঘর্টনা ঘটতেও দেখা গেছে।
• স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ঘুমের সমস্যা হয় সবচেয়ে বেশি।
প্রতিকার
• বাচ্চার মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করুন। তাহলে টিভি, মোবাইল বা ভিডিও গেমের আসক্তি থেকে অনেক সহজেই বাচ্চাকে দূরে রাখা যায়।
• বাচ্চাদের একাকিত্ব দূর করার চেষ্টা করুন। আজকাল বেশিরভাগই ছোট পরিবার। তাই বন্ধু ও পরিজনহীন বাড়িতে টিভিকেই তারা পরম বন্ধু করে নেয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মা-বাবা দুজনই চাকরিজীবী। অফিস শেষ করে বিকালে বাচ্চার জন্য বিভিন্ন ধরনের অ্যাক্টিভিটির পরিকল্পনা করুন। যেমন- নাচ, গান, আবৃত্তি, মিউজিকাল ইন্সট্রুমেন্ট শেখানো। এভাবে সমবয়সি বাচ্চাদের সঙ্গে সময়ও কাটাতে পারবে, ওদের একাকিত্বও ঘুচবে।
• মাঝে মধ্যে বাচ্চাদের নিয়ে খেলাধুলা করুন।
• অনেক সময় বিভিন্ন কার্টুন ক্যারেক্টারের মারপিট বা মোবাইল গেমের কার ক্র্যাশিং খেলা বাচ্চাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাঘাত ঘটায়। তারা অতিরিক্ত হাইপার অ্যাক্টিভ বা অ্যাগ্রেসিভ হয়ে ওঠে। তাই লক্ষ রাখুন, কী ধরনের প্রোগ্রাম বাচ্চারা দেখছে। সে ক্ষেত্রে বাচ্চার পাশে বসে ওকে সঠিক ব্যাপারটা বুঝিয়ে দিন।
• বাচ্চার খাওয়ানোর সময় বা ঘুমোতে যাওয়ার আগে কোনো ধরনের ডিভাসের অভ্যাস রাখবেন না। বরং গল্প বলুন। তাতে বাচ্চা অনেক ধরনের প্রশ্ন করতে শিখবে, নতুন বিষয় সম্পর্কে শিখবে। ঘুমোতে যাওয়ার আগে মন বিক্ষিপ্ত থাকবে না।
• শিশুদের ঘরে কাজে ব্যস্ত রাখতে পারেন। বিশেষ করে মায়েরা এ কাজটি করতে পারেন। আপনার সন্তানকে ছোট ছোট কাজে সহযোগিতা করা শেখাতে পারেন। এতে আপনার সন্তান ঘরের কাজের প্রতি আগ্রহী হবে এবং মোবাইল আসক্তি থেকে সরে আসবে।
একটি সুন্দর আধুনিক জীবন ও সুস্থ স্বাভাবিক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পেতে হলে এখনই আমাদের মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণি পেশার মানুষ এগিয়ে এলেই মোবাইলের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *